আড্ডা
(৯)
২০১৪ সাল। অক্টোবর। দেশে গেছে
অভি। আসলে এবার মূলত গেছিল ইন্ডিয়ার বিভিন্ন ইন্সটিটিউটে
নিজের কাজ সম্পর্কে লেকচার দিতে। তার আগে
ও পরে দেশে কয়েকদিন থাকা আর কি! দেশে গেলে সময় কাটায় গ্রামে, নিজেদের বাড়িতে। সকালে সন্ধ্যায় নদীর তীরে বা মাঠে ঘুরে ছবি তুলে, দুপুর কাটে
গল্প করে, বই পড়ে। এমনই এক অলস দুপুরে ফোন এল। না, নম্বর দেখে চেনার উপায় নেই। ফোন ধরতেই
ওদিক থেকে শোনা গেল
- অভি দা, কেমন আছেন?
অভির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। এ তো দুলালের কণ্ঠস্বর। এর আগে কখনও ওর সাথে টেলিফোনে কথা হয়নি। তাই একটু সন্দেহ হল। তবুও জিজ্ঞেস করল
দুলাল? তুমি কোত্থেকে?
চিনতে পেরেছেন তাহলে?
না পারার কি আছে? আমি অনেককে তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছি। কেউ বলতে পারেনি। তুমি আমার নম্বর কোথায় পেলে?
আমি ফেসবুকে আপনার আসার খবর আর নম্বর পেয়েছি। আপাতত ঢাকায় আছি। আপনি কোথায়?
আমি গ্রামেই সময় কাটাই। এখানেই আছি।
ঢাকায় আসেন। অনেক দিন দেখা হয়নি, কথা হয়নি। গল্প করা যাবে।
আমি তো কিছু এখানে চিনি না। ভাইয়ের সাথে কথা বলতে হবে। ও যেদিন যায়, আসব। তোমাকে জানাব।
ঠিক আছে।আমার সাথে দেখা না করে কিন্তু মস্কো ফিরে যাবেন না। আমি আপনার ফোনের অপেক্ষা করব। যদি মনে করেন, আমি নিজে গিয়ে আপনাকে নিয়ে আসব আপনার এলাকা থেকে।
না, সেটার দরকার নেই। তুমি চাইলে এমনিতেই বেড়াতে আসতে পার আমার এখানে। আর ঢাকায় আমি আসব নিজের কাজকর্ম নিয়েই। তখন প্ল্যান করে তোমার সাথেও আড্ডা দেব।
কথা রইল। দেখা হবে।
শিওর!
গ্রামোফোন থেকে ভেসে আসছে পিঙ্ক ফ্লয়েডের বিখ্যাত মিউজিক। অনেক দিন গ্রামোফোনে মিউজিক শোনা হয় না। ছাত্রজীবনের কত প্রিয় জিনিস যে সময়ের সাথে বাতিল হয়ে গেছে। এখনও কয়েক শ রেকর্ড ঘরে পড়ে আছে। শোনা হয় না। ফেলে দিতেও হাত ওঠেনা।
পিয়ানো কে বাজায়?
আমার মেয়ে।
আচ্ছা! ক’জন ছেলেমেয়ে তোমার?
দুই মেয়ে। এখন অ্যামেরিকা গেছে ওদের মায়ের সাথে। ওখান থেকে ক্যানাডা যাবে। আমারও যাওয়ার কথা ছিল ওদের সাথে। আপনি আসছেন জেনে রয়ে গেলাম। নেক্সট উইকে ফ্লাই করব।
আচ্ছা। জানা ছিল না আমিও তোমার বিজনেস প্ল্যানে ঢুকে গেছি।
না না, কি যে বলেন? আমি কিন্তু সত্যি সত্যি আপনার সাথে দেখা করার জন্য টিকেট চেঞ্জ করেছি।
অভি প্রসঙ্গ বদলে বলে
তোমার একটা মেয়ে ছিল না মস্কোয়?
হ্যাঁ।
যোগাযোগ আছে?
না। আসলে ও ছোট থাকতেই ওর মা’র সাথে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তবে ওর কোন কিছুর অভাব নেই। আমি গাড়ি, বাড়ি সব রেখে এসেছি।
তুমি নিজেকে এতটা অবমূল্যায়ন করলে?
ঠিক বুঝলাম না।
তুমি বললে না ওর কোন কিছুর অভাব নেই। আছে দুলাল, অভাব আছে! ওর বাবা নেই। আমার তো অনেক বয়স হল। এখনও কারো সাথে আলাপ হলে জিজ্ঞেস করে বাবা মা বেঁচে আছে কি না? তোমাকেও নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করে? ভেবে দেখ তো তোমার মেয়েকে তার বাবার কথা জিজ্ঞেস করলে ও কি উত্তর দেবে?
অভি দা!
স্যরি! আসলে আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। কথা প্রসঙ্গে কথা এল।

Comments
Post a Comment