(১৯)
এই যে আমরা এতক্ষণ ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে কথা বলছি, বিভিন্ন ভাবে সে দেশকে স্মরণ করছি এভাবে কী সে দেশের মানুষ বলে, মনে করে তাদের হারিয়ে যাওয়া দেশকে?
কেন বলতো? আমরা নিজেরাই কী সব সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে কথা বলি? বলি না। আমরা তো অন্য দেশ নিয়েও কথা বলি, ইউরোপ, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, চীন, আরব বিশ্ব – এসবই তো থাকে আমাদের কথায়। সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়াশুনা করেনি এ রকম কয় জনের সাথে তুমি সে দেশ নিয়ে কথা বল? শুধু আমরা নিজেরা যখন মিলিত হই, আড্ডা দিই, সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা আসে। এ আমাদের কমন মেমোরির কারণে। এই দেখ, আমরা কথা বললে মূলত মস্কো নিয়ে কথা বলি। আমার বিশ্বাস লেনিনগ্রাদে যারা পড়েছে তারা ঐ শহরের কথা বলে, ক্রাস্নাদারের মানুষ বলে তাদের শহর নিয়ে। ও দেশের মানুষ বলে সেই সময়ের কথা, তবে উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে। নিজের বাড়িতে যখন আগুন লাগে, তখন কেন লাগল, কে লাগালো সেগুলো নিয়ে ভাবার আগে আগুন নেভাতে হয়। স্বাভাবিক ভাবেই বর্তমান ব্যবস্থায় জীবন অনেক কঠিন, আগের মত চিন্তামুক্ত (?) জীবন আর নেই। কিন্তু তারপরের জীবন থেমে থাকে না, তাকে চালিয়ে নিতে হয়। ফলে কখনও কখনও সেই জীবন সম্পর্কে নস্টালজিক হলেও সেখানে কেউই বসে থাকে না। আর নস্টালজিয়া আসে তখন যখন দেখি কোন কিছু আগের মত স্মুথ হচ্ছে না। ধর কেউ ভার্সিটি শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না, তখন বলে সোভিয়েত ইউনিয়নে কেউ বেকার থাকত না। চারিদিকে করাপশন, হয়তো তখন বলে সে আমলে এত করাপশন ছিল না। আগের মত এখন অনেক কিছুই নেই, যেমন অক্তিয়াব্রিয়াতা, পাইওনীয়ার, কমসমল ইত্যাদি, (ঠিক নেই যে তা নয়, কমিউনিস্ট পার্টির
আছে, তবে সারা দেশে নেই) তবে কাউকে দেখিনি এ নিয়ে মন খারাপ করতে। আসলে এক সময় এসব সংগঠন যতটা না ভালো মানুষ গড়েছে তার চেয়ে বেশি করে অনেকের জন্যে কর্মজীবনে উন্নতির সোপান হয়েছে। এর ফলে যেটা হয়, এক সময়ে এসব সংগঠনের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালবাসা কমে যায়। দেশে আওয়ামী লীগের কথাই ভেবে দেখ। এটা সেই দল, যাদের ডাকে, যাদের সক্রিয় অংশগ্রহনে
এক সময় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই সংগ্রামে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বর্তমানে জনমানসে তারা কী সেই জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে? এমনটা হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষেত্রেও। এখন যদিও অনেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা বলে, খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যারা সেখানে ফিরে যেতে চায়। আমরা এতটা আবেগ প্রবণ কেননা সেখানে ভালো ছিলাম, বলতে গেলে কোন অভাব বোধ করিনি। যদি সেই সব বন্ধুদের কথা বলি যারা ১৯৮৭ বা ১৯৮৮ র আগে সে দেশ ত্যাগ করেছেন, তারা বলতে গেলে পড়াশুনার ক্ষেত্রে কোন সমস্যারই সম্মুখীন হননি। আমাদের অনেকেই যারা ১৯৮৯, ১৯৯০ বা তার পরে এখানে ছিলাম, তাদের কিন্তু সত্যিকার অর্থেই স্টাইপেণ্ডের টাকায় চলা কষ্ট হয়েছে। আমার কাছে এখনও সেই সময়ের চিনিসহ বিভিন্ন দ্রব্যের তালন বা কুপন রয়ে গেছে। এটাও কিন্তু বাস্তবতা। আমি একা ছিলাম। এখন কল্পনা কর সোভিয়েত পরিবারগুলোর কথা, যাদের ঘরে ছোট ছেলেমেয়ে ছিল। তারা কেন সেই কুপনের দিনে ফিরে যেতে চাইবে? তারা কেন একটু মাংসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে আর দিনের শেষ এসে দেখবে কোন মাংস নেই? এসব গল্প নয়, সত্য। আমরা ততটা জানতাম না, কিন্তু পরে কলিগদের কাছে এ গল্পও শুনেছি, নিজেও তো দেখেছি। তাই আমি বা আমরা যখন নস্টালজিক হই সেই ভাবনামুক্ত ছাত্রজীবন, উদ্দাম যৌবনের দিনগুলোর জন্য, এরা একই সাথে ভাবে ফাঁকা দোকানপাট, ভদকার লাইনে মারামারি আর পার্টি মেম্বারদের জন্য স্পেশাল দোকানের কথা। বলতে পার, এখন তো অনেকেই দামী দামী দোকানে ঢুকতে পারে না বা ঢুকলেও কিছু কিনতে পারে না, কিন্তু এখন অপশন আছে, শত কষ্টের মধ্যেও মানুষ পথ খুঁজে পায়। একটা চাকরি তোমার পছন্দ না হলে অন্য চাকরি খুঁজতে পার, কেউ তোমাকে জোর করে কোথাও ঢুকিয়ে দেবে না। জানই তো, “Что русскому хорошо немцу смерть” মানে “যেটা রুশদের জন্য ভালো, সেটা জার্মানদের জন্য মরণসম।” তাই একজনের জন্যে যেটা ভালো, অন্যের জন্য সেটা নাও হতে পারে। সবাইকে এক পাল্লায় বিচার করলে তো অশান্তি আসবেই। মানুষের অনেক কিছু ছিল, কিন্তু চয়েজ ছিল না। এবং সেটা অনেক ক্ষেত্রেই যান্ত্রিক ভাবে করা হত। এখানেই ছিল সমস্যা। আমরা তখন পড়াশুনা শেষ করে দেশে যেতাম, কাজ করতাম। তাদের তো যাওয়ার কোন দেশ ছিল না। ইচ্ছা অনিচ্ছায় এদেশেই কাজ করতে হত আর কাজ করতে হত সেখানে যেখানে পার্টি তোমাকে পাঠাত। তাই আমরা যত সহজে সে দেশের জন্য নস্টালজিক হতে পারি ওরা সেটা পারে না।
সোভিয়েত ব্যবস্থার সমালোচনা করলে, সেটাকে প্রশ্ন করলে অনেককেই দেখি ক্ষুন্ন হতে, পারলে বিশ্বাসঘাতক বলতে। সেটা কী কোন কথা হল? আমার তো বুঝতে কষ্ট হয় কেন এদেশে লেখাপড়া করে তারা প্রশ্ন করছেন না। সোভিয়েত শিক্ষা ব্যবস্থা কি আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়নি? আমরা কী এখানেই মার্ক্সিজম শিখিনি, সব কিছুর বস্তুবাদী বিশ্লেষণ করতে শিখিনি? আমরা যদি জীবনে সেটা প্রয়োগ করতে না পারি, তাহলে এই শিক্ষার কী দাম? নাকি আমরাও সেই বহুল পরিচিত কৌতুকের নায়কে মত বলব, “আমাদেরও বাক স্বাধীনতা আছে। চাইলে আমিও রেড স্কয়ারে গিয়ে চিৎকার করে বলতে পারি, আমেরিকা নিপাত যাক।” দ্বান্দিক বস্তুবাদ নিয়ে আমার একটা কৌতুক মনে পড়ে গেল। আমার এক বন্ধু ছিল কট্টর কমিউনিস্ট, কথায় কথায় দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ, ঐতিহাসিক বস্তুবাদের কথা বলত। বেশ কয়েক বছর আগে আমাকে বাসায় দাওয়াত দিল। বাড়ি তো নয়, যাকে বলে রাজপ্রাসাদ। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখাল। কী নেই সেখানে!
কী রে, কেমন লাগল?
তুই সারা জীবন বস্তুবাদ বস্তুবাদ করে গেলি, বাস্তবেও সেটাই দেখছি। সাবাস।
শুধু বস্তুবাদীই নই, একেবারে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী।
মানে?
এখানে বৌ থাকে। প্রায় একই রকম বাড়ি বান্ধবীর জন্য। কেমন করে যেন বৌ সেটা জেনে গেছে। শুরু হয়েছে দু পক্ষের দ্বন্দ্ব। বলতে পারিস লোকাল শীতল যুদ্ধ। এটা যদি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ না হয়, তবে কী?
যাকগে চুটকি চুটকিই। কাজের কথায় আসা যাক। জীবনে বিভিন্ন স্টেজ আমরা পার করি। যদিও সারা জীবন ধরেই আমরা কিছু না কিছু শিখি, একটা সময় আসে যখন এই শিক্ষাটা আমাদের কাজে লাগাতে হয়। শুধু মাত্র পাশ করার জন্য পরীক্ষায় বসা এক ব্যাপার, আর কর্ম জীবনে ঢুকে জীবনের প্রতি পদে পদে অর্জিত শিক্ষাটা সাফল্যের সাথে কাজে লাগান আরেক ব্যাপার। যার ফলে অনেক সময়ই দেখা যায় ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছেলেটি ভালো বিশেষজ্ঞ হয়নি। যতক্ষণ তুমি ক্লাসে ততক্ষণ বই পড়ে উত্তর জানতে পার, তোমার চেয়ে জ্ঞানী শিক্ষকের কাছে উত্তর দিয়ে ভালো নম্বর পেতে পার, কিন্তু রিয়াল লাইফে তোমাকে নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, অনেক প্রশ্নের উত্তর বইয়ের পাতায় পাওয়া যায় না, নিজের জ্ঞানকে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কাজে লাগাতে হয়। লব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে সঠিক ভাবে কাজে লাগানোই মুন্সিয়ানা, এর উপর নির্ভর করে তোমার দক্ষতা। যদি তুমি বল “সোভিয়েত ইউনিয়নে না গেলে তোমার শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যেত” তোমার সেই অধিকারের প্রতি আমার একশ ভাগ শ্রদ্ধা আছে। সেটা শুধু তুমি কেন, যে কেউই বলতে পারে। কিন্তু আমাকে যদি সে প্রশ্ন কর আমি বলব, কথাটা আংশিক সত্য, এটাকে «Истина последней инстанции» মানে শেষ সত্য বলে আমি অন্তত মানতে পারি না। একটা কথা আছে, «Очивидец самый большой лжец» মানে চাক্ষুষ সাক্ষী সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। না না, কারণ এই নয় যে সে মিথ্যা বলছে। ব্যাপারটা হল সে শুধু একটা জায়গা থেকেই কোন ঘটনা ঘটতে দেখেছে আর তার ভিত্তিতেই কোন সিদ্ধান্তে এসেছে। সে শুধু সিদ্ধান্তেই আসেনি, সেটা চাক্ষুষ দেখেছে বলে নিজের ভার্সনটাই দ্বিধাহীন ভাবে সত্য বলে মনে করছে। বহুরূপী আর বিচিত্র প্রকৃতির শুধু একটা রূপকেই সঠিক বলে মনে করা বা সঠিক বলে মেনে নেওয়া – সেটা এক ধরণের অন্ধত্ব, ডগমা। কসমোলজির জগতে আলেক্সেই স্তারবিনস্কি অন্যতম প্রধান নাম। ওনার সাথে আমার প্রথম আলাপ ২০০৭ সালে, একটা কনফারেন্সে। সেটা হত ইয়ালচিক বলে এক লেকের ধারে বনের ভেতর, সভ্যতা থেকে অনেক দূরে। যার ফলে পরিবেশ ছিল অন্তরঙ্গ, মন খুলে কথা বলার উপযোগী। আমি যে মডেল নিয়ে কাজ করতাম, সে ব্যাপারে উনি বেশ স্কেপ্টিক ছিলেন। এর পরেও অনেক বার তিনি এই মডেলের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ২০১৮ সালে প্রথম বলেন, «এখন অনেক ভালো ভালো মডেল আছে মহাবিশ্বের, কিন্তু তাদের একটাই শুধু সঠিক। কিন্তু ঠিক কোনটা সঠিক কেউ জানে না, জানা যাবেও না।» আমি বললাম, «সেটা ঠিক। কিন্তু কোন দিন যদি মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যায় আর নতুন করে চলার কথা ভাবে, সে তখন বাকি মডেলগুলো থেকে একটা বেছে নিতে পারবে, এই অপশনটাই কম কী?» আমাদের সব সময়ই কিছু অপশন রাখা দরকার। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের একটা মূল কারণ এর রিজিডনেস, ফ্লেক্সিবিলিটির অভাব। সোভিয়েত ইউনিয়নে আমি শুধু পড়াশুনাই করিনি, এখানে রয়ে গেছি, শিক্ষকতা করছি, গবেষণা করছি। তাই ভেতর থেকে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখার সুযোগ হয়েছে। সন্দেহ নেই, সোভিয়েত শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থার একটি। আধুনিক রাশিয়া সেই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সরে এলেও ফিনল্যান্ডের মত দেশ সোভিয়েত শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনুসরণ করছে, ভালো ফল পাচ্ছে। তাই ওই ব্যবস্থার উপকারীতা, কার্যকরীতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে সেটা একমাত্র পথ কিনা সে নিয়ে সন্দেহ আছে। একটা জিনিস একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, যে ব্যবস্থা মহাকাশ জয় করতে পারে, বিভিন্ন মারণাস্ত্র তৈরি করতে পারে সে ব্যবস্থাই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরিতে ব্যর্থ হয়। সোভিয়েত আমলের কথা না হয় বাদই দিলাম, এরপরে কেটে গেছে ৩০ বছর, কিন্তু নিজেরা কিন্তু এখনও একটা ভালো এবং বিশ্বমানের স্মার্ট ফোন, ভালো অটোমোবাইল, ভালো ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরি করতে পারেনি। জানি না, এটা কি কোন বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নাকি অন্য কিছু। বলতে পার, আমি কেন এ প্রশ্ন তুলছি? আমার বিশ্বাস আজ হোক, কাল হোক,
সমাজ তার নিজের প্রয়োজনেই একদিন সমাজতন্ত্রের
দিকে যাবে মানে সমাজতান্ত্রিক বন্টন ব্যবস্থায়। সেটা বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রমিক-কৃষক
রাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হয়তো নয়, পুঁজিবাদের মধ্যে থেকেই বন্টনের পুনর্বিন্যাস করে।
কিন্তু যেটাই হোক না কেন, যে সব কারণে সমাজতন্ত্রের অর্থনীতি পরাজিত হয়েছে, প্রচুর
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই সোভিয়েত
ব্যবস্থার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভুলগুলো যদি ধরতে না পারি, সেই দুর্বলতাগুলো দূর করতে
না পারি, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের সমস্ত আস্ফালন হবে শুধুই স্লোগান হবে,
এর বেশি কিছু নয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর রাশিয়ার চিঠিতে এখানকার পরিবর্তন সম্পর্কে গভীর
আশাবাদ ব্যক্ত করার সাথে সাথে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। করেছিলেন, কারণ তিনি সেটাকে ফেসভ্যালু হিসেবে গ্রহণ করেননি, ক্রিটিক্যাল দৃষ্টিতে দেখেছেন। আমার বিশ্বাস, শুধু আমার কেন, আমাদের বন্ধুদের অনেকেই মনে করেন সমাজের জন্য আমরা যথেষ্ট করছি না বা করতে পারছি না যদিও আমাদের প্রচুর পটেনশিয়াল আছে। শুধু তাই নয় , অনেকেই মনে করেন যে স্বপ্ন একদিন তারা দেখতেন, সেটাকে আংশিক ভাবে হলেও বাস্তবায়িত করার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। এখনকার কথা বলতে পারব না, তবে এক সময় অনেকেই বলতাম, ছাত্র ইউনিয়ন করে আমরা গর্বিত। তার কারণ একটাই। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রচুর অবদান রেখেছে। চাইলে হয়তো আমরাও পারি নিজেদের এমন ভাবে গড়তে যাতে একদিন «ভিপুস্কনিক হিসেবে আমি গর্বিত» বলতে এতটুকু দ্বিধান্বিত হতে হবে না। চল কথায় নয়, কাজে নিজেদের সেই পর্যায়ে নিয়ে যাই, যখন দেশের মানুষ বলবে, ওই দেখ সে সোভিয়েত ভিপুস্কনিক, একজন পরিপূর্ণ মানুষ। যদিও আমি বিশ্বাস করি, পরিপূর্ণতা কখনই আসে না, এটা অন্তহীন এক প্রক্রিয়া – আমরা শুধু একটু একটু করে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যেতেই পারি যেতেই পারি। ঠিক আছে দুলাল, ভালো থেকো, এ গল্পও অন্তহীন। এর শেষ নেই। আজ উঠি। আবার দেখা হবে। ফোন করো, মেইল করো।
Comments
Post a Comment