লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

(১০)

এর মধ্যেই বাজতে শুরু করেছে রবিশঙ্কর। আরও একজন প্রিয় শিল্পী।

কি খাবেন বলেন? ভালো হুইস্কি আছে। ভদকাও আছে। অথবা ওয়াইন?

যেটা খুশি। কোন আপত্তি নেই। তবে আমি চা খেতেই বেশি পছন্দ করি।

হুইস্কির সাথে বরফ দেব?

না, সেটার দরকার নেই। আমি তো রাবোচি মানে শ্রমিক শ্রেনীর লোক। র’ই দাও।

আপনি কি এখনও পার্টি করেন? আপনার লেখা পড়ে তাই মনে হয়।

তুমি আমার লেখা পড় সেটা তো জানতাম না?

আমি ফেসবুকে আপনাকে ফলো করি। আপনার পোস্ট রেগুলার দেখি।

তাই বল। আমি তো ভাবলাম তুমি গোয়েন্দা লাগালে কি না আমার পেছনে।

না না। কি যে বলেন? আপনি কিন্তু পার্টির ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলেন।

ওটা আওয়ামী বন্ধুদের প্রোপাগান্ডা। আমি কোন পার্টি করি না। সেই ১৯৮৯ সাল থেকে দলছুট।

কিন্তু আপনার লেখা ...

দেখ, কোন আদর্শে বিশ্বাস করতে তো দল লাগে না। আমি কিন্তু পার্টি করে আদর্শে বিশ্বাস করিনি। সাম্যবাদের আদর্শে বিশ্বাস করি বলেই এক সময় পার্টি করতাম। এখনও সেই আদর্শেই বিশ্বাস রাখি, তবে পার্টিতে নয়।

কেন?

দেখ আমার মত মানুষের কোন কালেক্টিভে থাকা কঠিন। এই যেমন ধর স্কুলজীবনে অনেকেই ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু ...

অভি দা, আপনি আবার ...

স্যরি। আমি একটা উদাহরণ দিতে চাইছিলাম। ঠিক আছে, অন্যভাবে বলছি। আমাদের গ্রামে নদীর এক জায়গায় গুদারা মানে ফেরি আছে। ওতে করে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ অন্য পাড়ে যায়। সবার প্রাথমিক গন্তব্য ওপার। তারপর যে যার পথে চলে যায়। কেউ বাড়ি ফেরে, কেউ বেড়াতে যায়, কেউ ভালো কাজ করতে, কেউ বা চুরি করতে। মাঝি জানেই না কে কী কারণে নদী পাড়ি দিচ্ছে।

মানে......

ঠিক ধরেছ। এই যে আমাদের দেশের নৌকায় চড়ে কত লোক এম পি থেকে শুরু করে কত কিছু হয়। তোমার কি মনে হয় না আজকের নৌকার খুব কম যাত্রীর গন্তব্যই এক? গ্রামের ঘাটের ফেরির মত নৌকাও অনেকের কাছেই নির্বাচনী বৈতরণী পারের বাহন মাত্র। নৌকাটা উদাহরণ। অন্যান্য দলগুলোও প্রায় একই রকম। যেখানে যার যার গন্তব্য এক এক রকম সেখানে এক সাথে পথ চলাটা কঠিন। অন্তত আমার জন্য। তাই আর কোন দল করি না। নিজের ভাবনায় বিশ্বস্ত থেকে লেখালেখি করি। কখনও সেটা যায় কারো পক্ষে, কখনও কারো বিপক্ষে। কথায় বলে বোবার শত্রু নেই। আমি তো বোবা নই। তাই সবাই মনে করে আমি অন্য দলের লোক।

আরেকটু ঢালব?

ঢালো। ও হ্যাঁ, তোমার মেয়েরা এখন অ্যামেরিকায় বলেছিলে। কি করে ওরা?

স্কুলে পড়ছে। এখানে স্কুল শেষ করলে ওখানেই থাকবে। নিউইয়র্ক আর টরেন্টোয় দুটো বাড়ি করেছি। আপনি কিন্তু বললেন না আমার ফ্ল্যাটটা আপনার কেমন লাগল?

ফ্ল্যাটটা তো ভালো করে দেখাই হল না। আমি আসলে কোথাও গেলে শুধু মানুষের কাছেই যাই, বাড়ির মানুষগুলোই আমাকে আকৃষ্ট করে। অন্য কিছু তেমন দেখা হয়ে ওঠেনা। আমরা সবই করি নিজেদের সুবিধার জন্য। বাড়ির প্যাটার্ন, পোশাক পরিচ্ছদ সব এমন ভাবে করি যাতে সেখানে সময় কাটিয়ে বা কাজ করে আরাম পাই। আরামের ব্যাপারটা একেক জনের একেক রকম। তবে তোমার ড্রয়িং রুমটা সুন্দর। অনেক পুরনো জিনিস দেখতে পাচ্ছি। সেই গ্রামোফোন, বইপত্র, রেকর্ড – ঠিক যেন ছাত্রজীবনের ফেলে আসা দিনগুলো ফিরে পেলাম। দেখছ না, কেমন গা এলিয়ে, মন খুলে গল্প করছি। এর মানে খুব ভালো লাগছে।

আর এই বাঁশঝাড়টা?

অপূর্ব। আমাদের গ্রামের বাড়িতেও বাঁশঝাড় আছে। যখন পূর্ণিমার চাঁদ বাঁশঝাড়ের মাথা থেকে উঁকি দেয়, সে যে কী দৃশ্য, তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। তবে ফ্ল্যাটে বাঁশঝাড়ের আইডিয়া খুব সুন্দর। এটাকে আমরা এখন বলি ইকোফ্রেন্ডলি।


 

Comments

Popular posts from this blog

সোভিয়েত থেকে রাশিয়া

কাজান

আগ্রা মথুরা বৃন্দাবন