পূর্ব কথা

(০)

অনেক দিন আগে জাহীদ ফেসবুকে এক বিজ্ঞাপন দিয়েছিল ওর সাহিত্যের পাতার জন্য লেখা চেয়ে। কী যেন মনে করে লিখতে শুরু করলাম। নিজেদের নিয়ে এরকম একটা কিছু লেখার ইচ্ছে অনেক দিন ধরেই মনের ভেতর পোষণ করছিলাম। জাহীদের আহ্বান সেটাকে উস্কে দিল। হয়তো দেশের কোন পত্রিকায় লেখার সুপ্ত ইচ্ছে ছিল। এর মধ্যেই বাংলায় টুকটাক লিখতে শুরু করেছিলাম। হয়তো অজ্ঞাত কুলশীল অবস্থা থেকে বেরিয়ে দেশের সুধী সমাজের নিওনের আলোতে নিজের জন্য একটু স্থান করে নেওয়ার ইচ্ছে জেগেছিল। নিজের দেশে একটু পরিচিতি কে না চায়? শত হলেও হাড্ডি চামড়ার মানুষ। নিজেকে দেশের শিক্ষিত সমাজের ব্রেকফাস্টে চা বা টোস্ট বিস্কুট হিসেবে হাজির করার এই সুবর্ণ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? তবে সে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই রয়ে গেছে। এর আগে ফেসবুকে সেটা “এক দুলালের গল্প” নামে আপলোড করেছিলাম। ইতিমধ্যে পৃথিবী সূর্যকে বার দেড়েক প্রদক্ষিণ করেছে, ভল্গা দিয়েও টন টন জল ভেসে গিয়ে কাস্পিয়ান সাগরে ডুবে মরেছে। কিছুটা পরিবর্তিত, কিছুটা সংযোজিত আকারে সেটা আবার প্রকাশ করার ইচ্ছে রাখছি। লেখাটা বেশ বড়। তখন পনের পর্ব ছিল। ভাবছি প্রতিদিন বা একদিন দু’ দিন অন্তর অন্তর একটা করে পর্ব দেব। সেটা শেষ পর্যন্ত পনেরতে শেষ হবে নাকি চলতে থাকবে বলতে পারছি না। সময়  সেটা নির্ধারণ করবে। আর নির্ধারণ করবে আপনাদের প্রতিক্রিয়া – মানে প্রতিক্রিয়া প্রগতিশীল হবে নাকি প্রতিক্রিয়াশীল – সেই রসায়ন। কয়েকদিন আগে “সমান্তরাল জীবন” পড়ে কেউ কেউ সেখানে পরিচিত মানুষদের খুঁজতে শুরু করেছিলেন। টমির মত দুলালও এক সম্মিলিত চরিত্র, আমাদের অনেকের জীবন থেকে একটু একটু করে নিয়ে দুলাল নিজেকে তৈরি করেছে। সে আশির দশকের শুরু থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত মস্কোয় বা সোভিয়েত ইউনিয়নে বসবাসকারী এক বাংলাদেশী ছাত্র, বাংলার  পাড়াগাঁ থেকে উঠে এসে মস্কোয় পড়াশুনা করেছে, সমজতন্ত্রের সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে আর শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে সাথে নিজের স্বপ্নকেও ভেঙ্গে চুরমার করে নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছে। জীবনে সাফল্য ছিল তার চিরসখা, তবে পঞ্চাশ পেরিয়ে সে আবার দ্বিধান্বিত। এখানে আমরা তার দ্বিধার কথা বলব, জানব তার সাফল্যের কথা আর অপূর্ণ স্বপ্নের কথা। কথা প্রসঙ্গে অনেক কথাই উঠে এসেছে। জীবনের কথা, জীবনদর্শনের কথা। প্রতিটি মানুষই একেক জন দার্শনিক, সবারই নিজস্ব মতামত আছে জীবন সম্পর্কে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে। কেউ সেটা প্রকাশ করে, কেউ নিজের মধ্যে রেখে দেয়। তবে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস থাকলে, খোলামেলা মত বিনিময় করার পরিবেশ থাকলে বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে গোপনে লালিত স্বপ্নের কথা, সাফল্য-ব্যর্থতার কথা বলে, বলে জীবনের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা। সেটা অনেক সময়ই আমাদের গড়পড়তা ধারণার সাথে মেলে না, তবে এই যে না মেলা, এই যে ভিন্ন চোখে জীবন দেখা সেটাই মনে হয় জীবনকে করে তোলে সুন্দর আর বৈচিত্র্যময়। আসুন শুনি সেই গল্প যেটা আমরা অনেকেই চেয়েছি, কিন্তু বিভিন্ন কারণে পাইনি  



Comments

Popular posts from this blog

সোভিয়েত থেকে রাশিয়া

কাজান

আগ্রা মথুরা বৃন্দাবন