চেন্নাই পণ্ডিচেরী মহাবালীপুরম
(২৪)
ভুবনেশ্বরে অভি আরও পাঁচ দিন ছিল। এ কটা দিন কেটেছে কাজের মধ্যে। একটা সেমিনার ছিল আইওপি-তে, আরেকটি প্রতীকের উদ্যোগে এনআইএসএআর-এ পপুলার টক কসমোলজির উপরে। শুক্রবার ও রওনা হল চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে। সেখানে ইনস্টিটিউট অফ ম্যাথেমাটিক্যাল সাইন্স-এ থাকবে এক সপ্তাহ। এর আয়োজন করেছেন ১৯৯৬ সালে ট্রিয়েস্টে পরিচিত পুরুষোত্তমদা, প্রোফেসর পুরুষোত্তম রায়। এই এলাকায় অভির এটাই প্রথম আসা। পুরুষোত্তমদা বলে দিয়েছিলেন এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি করে চলে আসতে। গেস্ট হাউজের ঠিকানা দেওয়া ছিল। দক্ষিণ ভারতের প্রকৃতি অবলোকন করতে করতে অভি চলে এলো গেস্ট হাউজে। একেবারে ভিন্ন ল্যান্ডশাফট, বেশ রুক্ষ বলে মনে হল অভির। গেস্ট হাউজে এসেই পুরুষোত্তমদাকে ফোন করল অভি। অভি একটু ফ্রেশ হওয়ার পরপরই উনি চল এলেন। আশেপাশের দোকানপাট দেখিয়ে দিলেন। বললেন, সোমবার অভির সেমিনার। উনি আগামীকাল সকালে যাবেন গ্রামের বাড়ি, পণ্ডিচেরীর উপকণ্ঠে। অভিকে আমন্ত্রণ জানালেন তাদের সঙ্গী হতে। অভির অন্য কোন কাজ ছিল না, তাছাড়া শনিবার, রবিবার সব বন্ধ। অজানা অচেনা শহরে ও কীই বা করবে! তাই রাজী হয়ে গেল। কথা হল ওকে নিয়ে তাঁরা পাশের জেলেদের গ্রাম, পণ্ডিচেরী ও ঋষি অরবিন্দের আশ্রম আউরোভিল যাবেন। পণ্ডিচেরীর ব্যাপারে অভির বরাবরই আগ্রহ ছিল, ব্রিটিশ ভারতে এটা ছিল ফ্রান্সের কলোনি। পুরুষোত্তমদা চলে গেলেন, কথা রইল, আগামীকাল মানে শনিবার ভোরে আসবেন ওকে নিতে।
পরের দিন সাত সকালে ওরা রওনা হল। পুরুষোত্তমদা, বউদি আর অভি। রাস্তায় ব্রেকফাস্ট করল ওরা। এর আগে এক জায়গায় নেমে পাখিদের ছবি তুলল। ব্রেকফাস্ট যে রেস্তরায় করল সেখানে ছিল ছোট্ট এক নদী। অভির তো পোয়াবারো। কিছু ছবি পাওয়া গেল। যেতে যেতে এক জায়গায় দেখে এক লোক গরু দিয়ে হালচাষ করছে। অভির অনেক দিনের ইচ্ছে এর একটা ছবি তোলা। ছোটবেলায় নিজেদের অনেক জমিজমা ছিল, ছিল গোয়াল ভরা গরু, রাখাল চাকর দিয়ে বাড়ি ছিল লোকে লোকারণ্য। ধান পাট কি না হত আর ধান মাড়াই, ধান সেদ্ধ, ধান ভানা, পাট আর পাটখড়ি শুকোনো এ সবই হত বাড়িতে। এসব ছিল ওর শৈশব আর কৈশোরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। দেশে ফিরে আশেপাশের জমিতে কত বার গেছে এসবের ছবি তুলতে। পারেনি। দেশে এখন আর এসব দেখা যায় না, ওদের গ্রামে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ হয়। পুরুষোত্তমদাকে অনুরোধ করতেই গাড়ি থামালেন। বোনাস হিসেবে পেল তাল গাছ আর এক ঝাঁক বক। দেখতে দেখতে ওরা চলে এলো গ্রামের বাড়ি। গ্রামের বাড়ি বললে ভুল হবে, ওটা ছিল উচ্চ বিত্তের কোয়ার্টার, মূলত আইএমএস এর বিজ্ঞানীদের উইকএণ্ড কাটানোর কলোনি। দুপুরে ওখানে খাওয়া দাওয়া করে ওরা রওনা হল পণ্ডিচেরীর উদ্দেশ্যে। পথে একটা গ্রামে নেমে সী বীচে হাঁটাহাঁটি করল। দেখল কীভাবে সূর্য সাগরের জলে লুটোপুটি খেতে খেতে এক সময় এক সময় কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। পণ্ডিচেরী যখন পৌঁছুল রাত নেমে এসেছে শহরের উপর। আকাশের তারাগুলোকে ম্লান করে দিয়ে জ্বলে উঠেছে বিজলী বাতি। পণ্ডিচেরী ছোট্ট, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন শহর। ভারতের অন্যান্য শহরের মত নয়। লোকজন মূলত ট্যুরিস্ট। দুএকটা মন্দিরেও গেল ওরা, গনেশের মন্দির মনে হয় আর ঋষি অরবিন্দের আশ্রম মত। মনে হল এটাই পণ্ডিচেরীর প্রাইম টাইম। আলো আঁধারের সাথে লুকোচুরি খেলেতে খেলতে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশ বিদেশের ট্যুরিস্টরা। আর চারিদিক থেকে তাদের ডাকছে অন্তহীন স্যুভেনিরের দোকান। ওখান থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত। ঠিক হল পরের দিন সকালে ওরা যাবে এক জেলে পাড়ায়। সেখানে মাছের বাজার বসে। সেখান থেকে ওরা যাবে আউরোভিলে। দুপুরের পর রওনা হবে চেন্নাইয়ের পথে। ওদের তাড়া নেই, তবে আভির যেহেতু সেমিনার, তাই রাত না করাই ভালো।
পরের দিন সকালে চা খেয়ে ওরা বেরিয়ে পড়ল আউরোভিলের পথে। রাস্তায় ছোট্ট একটা বিরতি। জেলেদের গ্রাম। লোকজন কাজে ব্যস্ত, কেউ সাগরে যাচ্ছে মাছ ধরতে, কেউবা ফিরছে সেখান থেকে। এদিকে কেউ কেউ জাল সেলাই করছে। অভির মনে পড়ল নিজের গ্রামের কথা। ওদের বাড়ির পাশেই জেলেপাড়া। সেখানে সারা বছর ধরেই চলত জাল বোনা আর জাল সেলাইয়ের কাজ। কয়েকটি বাচ্চা ছেলে এসে ওকে ঘিরে ধরল। অভিকে অবাক করে ইংরেজিতে কথা বলল ওর সাথে। পুরুষোত্তমদা বললেন, ওরা মিশনারি। ওদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। হাঁটতে হাঁটতে ওরা গেল স্থানীয় বাজারে। মহিলারা বসে মাছ ভাগ বাটয়ারা করছে, বিক্রিও করছে। অনেকটা তরার মাছের আড়তের মত। এরপর আবার পথে নামল ওরা। দেখতে দেখতে পৌঁছে গেল আউরোভিলে। দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। মনে হয় যেন রামায়ণ বা মহাভারতে বর্ণিত কোন তপোবন। এদিক সেদিক গরু ভেড়া ঘোরাফেরা করছে। পুরুষোত্তমদা সংক্ষেপে এ জায়গা সম্পর্কে অভিকে জানাল। ঋষি অরবিন্দ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন সশস্ত্র সংগ্রামের প্রবক্তা। পরবর্তী জীবনে আধ্যাত্মিক গুরু। তিনি ছিলেন দার্শনিক, কবি, জাতীয়তাবাদী নেতা, যোগী এবং গুরু। শেষ জীবন কাটে পণ্ডিচেরীতে। ওখানেই ব্রেকফাস্ট, তারপর ঘোরাফেরা। সময়াভাবে আশ্রমের ভেতরে যাওয়া হয়নি, তবে ঐ রাজ্যটা দেখা হয়েছে ভালো ভাবেই। আশ্রম এলাকায় ঢোকার মুখে একজোড়া স্যাণ্ডেলের অর্ডার দেয় অভি। ফেরার পথে ঠিক তৈরি হয়ে যায়। আশ্রম চলে কমিউন পদ্ধতিতে। যারা থাকতে চান সবাই সব কাজ করেন। কোন শ্রেণী বিন্যাস নেই, বড়ছোট নেই। আর যার যা দরকার সেটা আশ্রম থেকেই পান। তবে আশ্রমে যারা থাকেন তাদের চাহিদা কম, তাই কোন সমস্যা হয় না। এখানে নিজস্ব নিয়ম, ভারত সরকারের নিয়ম বলতে গেলে সেখানে অচল, তাই বলে এটা ভারতের বাইরেও নয়। যে কেউই এখানে থাকতে পারে (অবশ্যই টেস্টে টিকলে) আবার চলেও যেতে পারে স্বেচ্ছায়। যাকে বলে পূর্ণ স্বাধীনতা। অন্তত আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হয়।
দুপুরে বাসায় লাঞ্চ করে ওরা ফিরল চেন্নাই। ফিরতে ফিরতে অবশ্য রাত। পরের দিন সেমিনার। ব্যস্ততা। তার আগে ওকে কলিগদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হল। দেওয়া হল বাকী সপ্তাহ কাটানোর জন্য একটা অফিস। এরই মধ্যে ক্যান্টিন থেকে খেয়ে নিল ওরা, কথা হল কখন লাঞ্চ আর ডিনার করবে এসব। সেমিনার শেষে পুরুষোত্তমদা বললেন “আবার কবে আসবে কে জানে। চেন্নাই আর আশেপাশের এলাকাগুলো ঘুরে দেখে যাও। চেন্নাই আইআইটি পাশেই, সেখানে ঘুরতে যেতে পার একদিন, আরেক দিন মহাবালীপুরম। তুমি ছবি তুলতে পছন্দ কর। এসব ছবি তোলার জন্য খুব ভালো জায়গা। তবে আমি তো ব্যস্ত থাকব কাজে। তোমাকেই যেতে হবে। কোন অসুবিধা হলে ফোন করো, আমি গাইড করব। আজ আজ বিকেলে যাব এখানকার সবচেয়ে বড় মন্দিরে। এরপর রামকৃষ্ণ মিশনে।”
বিকেলে ওরা গেল ম্যালাপুর নামে একটা জায়গায়। নামটা তামিল উচ্চারণে ময়লার মত শোনায় তাই পুরুষোত্তমদা এভাবেই উচ্চারণ করলেন আর অভির কানে সেটাই গেঁথে রইল। ম্যালাপুর শিব মন্দির চেন্নাইয়ের অন্যতম বৃহৎ মন্দিরের একটা। দক্ষিণ ভারতের মন্দির মানেই রাম আর হনূমানের ছড়াছড়ি। মন্দিরের বাইরের দিকটা বিভিন্ন রকম কারুকার্যে ভরা। কত রকম যে মূর্তি সেখানে! আর ভেতরটা? এই প্রথম কোন মন্দিরের ভেতরে খালি পায়ে ঢুকতে অভির এতটুকু দ্বিধা হল না। এমন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। মন্দির তো নয় যেন মিউজিয়াম। প্রবেশ পথে জুতা রাখার জায়গা, মস্কোয় থিয়েটারে যেমন ওভার কোট রাখার ব্যবস্থা অনেকটা তেমন। এই সন্ধ্যায় অনেক লোকের সমারোহ, কিন্তু উত্তর ভারত বা বাংলার মন্দিরের মত ঠ্যালা ধাক্কা নেই। মন্দিরের সামনে নেই ভিখারির ভিড়। উল্টো, অনেক দোকানপাট, মেলা মেলা ভাব। ওখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে ওরা গেল রামকৃষ্ণ মিশনে। বিশাল আশ্রম। ঝকঝক তকতক করছে চারিদিক। ভক্তরা বসে আছে। কেউ কিছু পড়ছে, কেউবা ধ্যানমগ্ন।
পরদিন ভোরে অভি চলে গেল একটা মন্দিরের কাছে। সেখানে দুলাল আসবে। ওখান থেকেই একটা বাসে ওরা যাবে মহাবালীপুরম। পথে নামবে ক্রকোডাইল পার্কে। ট্রিপের পুরো ছকটা পুরুষোত্তমদা করে দিয়েছিলেন, তাই ওরা সেভাবেই গেছে। একটু পরেই দুলাল এসে হাজির। বাসের নম্বর জানা ছিল। ভাষা গত কারণে কোন রকম দুর্ঘটনা এড়াতে ওরা বাসে যাওয়াই ঠিক করেছে, অন্তত গন্তব্যের ব্যাপারে কোন দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। বাসে তেমন লোকজন নেই, তাই ওরা গল্প করতে করতেই চলল। কখনও জানালা দিয়ে তাকিয়ে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে, কখনও বা গল্প করে।
আপনি সেদিন লেনিন সম্পর্কে কী একটা বলতে চাইছিলেন।
ও হ্যাঁ। বর্তমানে সেই সময়ের অনেক দলিলপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে। সব দলিলই এক সময়ে প্রকাশ করা হয়, তাই সেখান থেকে অনেক তথ্য জানা যায়। কিছু দলিল থেকে দেখা যায় লেনিন ছিলেন জার্মানির চর। আসলে তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছিল পুরাদমে। রাশিয়া ছিল ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, অ্যামেরিকার সাথে। জার্মানি চাইছিল এই জোট ভাঙতে। লেনিন তখন ইউরোপে পলাতক। জার্মানি তাঁকে রাশিয়ায় ক্ষমতা দখলে সাহায্যের প্রস্তাব দেয় পরিকল্পনা সফল হলে রাশিয়া জোট থেকে বেরিয়ে যাবে এই শর্তে। লেনিন সেটা গ্রহণ করেন। লেনিনের দিক থেকে সেটা ছিল রুশ বিপ্লব সম্পন্ন করার অনুকুলে সাহায্য, জার্মানির জন্য উল্টোটা। উদ্দেশ্য যাই থাকুক, এটাই ফ্যাক্ট। এ নিয়ে সমাজে এখন নানা প্রশ্ন আছে। অনেকেই অপেক্ষা করছে এ সংক্রান্ত জার্মান ও ব্রিটিশ দলিল প্রকাশের। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটা নিয়ে তেমন চিন্তিত নই। দেখ আমার স্কুল শুরু হয় বলতে গেলে বহরমপুরে। মাসির বাড়ির সাথেই স্কুল। তাই ১৯৬৯ স্কুলে হাতেখড়ি এই স্কুলেই। ১৯৭২ সালে বেড়াতে এসেও কয়েক মাস সেই স্কুলে গেছি। শিশুদের বইয়ে তখন অতি সংক্ষেপে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আর দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাস সম্পর্কে লেখা ছিল। মা ছিলেন নেতাজির ভক্ত। তাই তার সম্পর্কে অনেক শুনেছি, তাঁকে আদর্শ মেনেছি। সোভিয়েত ইউনিয়নে যাওয়ার পর জার্মানির অত্যাচার আর ধ্বংসলীলার কথা যখন পড়লাম, নেতাজি সম্পর্কে এক ধরণের নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছিল। তবে পরে বুঝলাম, উনি ইংরেজদের বদলে জার্মানির কলোনি হতে চাননি, শুধু জার্মানির সাহায্যে ইংরেজ হটাতে চেয়েছেন। উনি ইংরেজ বিরোধী ছিলেন কিন্তু ফ্যাসিবাদের সমর্থক ছিলেন না। একই ভাবে দেখব আমাদের দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের শুরু ইংরেজদের হাত ধরে। তখন গতিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন দমাতে ইংরেজ শাসকেরা বন্দীদের মধ্যে মার্ক্সবাদী সাহিত্য বিতরণ করত। আমরা তো কখনও উপমহাদেশের কমিউনিস্টদের ইংরেজের দালাল বলি না। আসল কথা হল দু’পক্ষ যখন কোন চুক্তি করে সবাই নিজ নিজ স্বার্থ থেকেই সেটা করে, অনেক সময় দু দলের লক্ষ্য একেবারে ভিন্ন হতে পারে, তবে সেই সময়ের জন্য সেটা উভয়ের জন্যই লাভজনক। দিনের শেষে রাজনীতি, এটা লাভ ক্ষতির খেলা, কোথাও ছাড় দেওয়া, কোথাও দর কষাকষি করা, এসবই রাজনীতি আর কূটনীতির অংশ। এটা খেলার অঘোষিত নিয়ম। ইতিহাসে এসব খুঁটিনাটি বিষয় স্থান পায় না, স্থান পায় শেষ ফলাফল। তারপর একটু বড় আঙ্গিকে দেখলে এই সব ইজমই তো একটা আইডিয়া বই তো কিছু নয়। মানে এগুলো যাকে বলে প্রাকৃতিক নয়, মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত। তবে এসবই আবার মানুষের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই রচিত। আদিম সমাজে কমিউন ব্যবস্থা ছিল, কারণ ব্যক্তিগত সম্পদ বলতে কিছু ছিল না। ছিল প্রতিকূল প্রকৃতি আর তার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকার জন্য যৌথ সংগ্রামের অপরিহার্যতা। এখনও দেখবে যেকোনো গণ আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ সব ভেদাভেদ ভুলে সকলের বৃহত্তর স্বার্থে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ইনস্টিঙ্কট মনে হয় সেই আদিম যুগ থেকে উত্তারাধিকার সুত্রে পাওয়া। ভালো মন্দ সবই তো আপেক্ষিক। কোন বিশেষ সমাজে বিশেষ অবস্থায় আজ যেটা ভালো, কালও যে সেটা ভালো থাকবে তার কি কোন কথা আছে? একটা পুরনো ধর্মকে সরিয়ে নতুন ধর্ম যখন এসেছে, সেটা কিন্তু সমাজের চাহিদা থেকেই এসেছে। একটা রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করে আরেকটা দল যখন ক্ষমতা দখল করে সেটাও কিন্তু সমাজের চাহিদা থেকেই করে। বলতে পার সামরিক ক্যুর কথা। কিন্তু এভাবে ক্ষমতা বদল তো চিরস্থায়ী নয়। আসলে এক অর্থে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ফ্যাসিজম – এসবও ধর্ম। ধর্মের মধ্যেও কী আমরা ফ্যাসিস্ট উপাদান দেখতে পাই না? মৌলবাদীদের দিকে তাকাও, দেখবে ওদের মধ্যেও ফ্যাসিস্ট চিন্তাভাবনা, ফ্যাসিস্ট আদর্শ বিদ্যমান। আবার ধর্মের মতই এইসব ইজমও মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, আশ্বাস দেয়। ধর্ম তার অনুসারীদের পুরস্কৃত করে পরলোকে, এরা ইহলোকে। ধর্মে পুরস্কৃত করে অদৃশ্য ঈশ্বর, এসব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান মানুষ। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ফ্যাসিজম – এসব ঈশ্বরকে নয় মানুষকেই নিজের ভাগ্য বিধাতা ভাবতে শেখায়। তবে আজকাল এইসব তন্ত্রও ধর্মের উপাদান ব্যবহার করে। তাই আম জনতা নয় নেতারূপী মানুষ তার ভাগ্য বিধাতা। আর এই নেতারা অনেকটা স্বর্গবাসী, সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু অন্যদের সাথে সমাজতন্ত্রের পার্থক্য হল অন্যেরা ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করার স্বপ্ন দেখায়, সমাজতন্ত্র পুরস্কৃত করতে চায় সমষ্টিকে। সেই সোভিয়েত আমলেও আমার প্রায়ই এমনটা মনে হত যে ধর্মের বিপক্ষে বললেও, ধর্মকে শুধু রাষ্ট্র নয়, সামাজিক জীবন থেকে বের করে দিলেও সোভিয়েত ব্যবস্থা মূলত ধর্মীয় পথেই গড়ে উঠেছে। ধর্মীয় ইতিহাস ঘাটলে আমরা কি দেখব, ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা। এক ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছে কিন্তু অন্য ধর্মেও মধ্য থেকে, প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসে কিছু পরিবর্তন এনে, কিছু সংশোধন, কিছু সংযোজন, কিছু বর্জন করে। কিন্তু সব কিছুর মূলেই আছে এক অলৌকিক শক্তির প্রতি ভয় আর ভক্তি, আছে নির্মম শাস্তি আর অভূতপূর্ব পুরস্কারের লোভ। আসলে মানুষের স্বভাবগত চরিত্রের সাথে মিল রেখেই তৈরি হয়েছে নরক আর স্বর্গের অবকাঠামো। এই যে আমরা পড়াশুনা করি, সেটাও তো এই একই ছকে ফেলে করি। কয় জন মানুষ জ্ঞান অর্জন করার জন্য পড়াশুনা করে? ধর্মের মূল কথাও তো ঈশ্বরকে জানা। ঈশ্বর কে? যিনি সৃষ্টিকর্তা। তাঁকে জানা মানে সৃষ্টির রহস্য জানা। কিন্তু মানুষ কি তাঁকে জানার চেষ্টা করে? করে না। মানুষ তার পূজা করে তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্য। তাঁকে জেনে নয়, তাঁকে তুষ্ট করে মানুষ চায় তাঁর করুণা, মানুষ ইহলোকে চায় ধনদৌলত আর পরলোকে চায় স্বর্গের টিকেট। স্বর্গ কী? অগণিত অপ্সরা আর অফুরান খাদ্য। আশ্চর্য কি জান? তুমি যদি ইহলোকে ব্যভিচার কর পরলোকে পাও নরক যন্ত্রণা আর ইহলোকে সংযম পরলোকে তোমাকে দেয় ব্যভিচারের টিকেট। এখানেও যেন সুখ আর দুঃখের নিত্যতার সূত্র কাজ করে। ও হ্যাঁ, জ্ঞানার্জনের কথা বলছিলাম। বলতে পার কয়জন মানুষ জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়াশুনা করে? অধিকাংশ করে ভয় থেকে যাতে শিক্ষক বা অভিভাবক বকাঝকা না করেন। আর যারা নিজেদের থেকেই পড়াশুনা করে, তাদের বেশির ভাগ সেটা করে ভাল মার্কস পাওয়ার জন্য। পার্থক্য হল মার্কস আমরা চোখে দেখি, স্বর্গ – সেটা দেখি না, শুধুই আশা করি। এক্ষেত্রে পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, ফ্যাসিবাদ – এরা কাজ করে কুইক ডেলিভারি সিস্টেমে, অন্তত করতে চায়। এরা শেষ বিচারের জন্য বসে না থেকে এখানেই নিজেদের আইন আদালত তৈরি করে, ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসীদের শাস্তি দেয়, যারা সহমত তাদের পুরস্কৃত করে। সত্যি বলতে কি সেই সোভিয়েত আমলেই যখন দেখতাম একদল লোক বিভিন্ন প্রশংসাপত্র পাওয়ার জন্য বাড়তি কাজ করছে বা এক বছরের প্ল্যান ছয় বা নয় মাসে পূর্ণ করছে, আমার কেন যেন সে কথাই মনে হত। কেন, সেটা বলতে পারব না, তবে কি রকম একটা মিল খুঁজে পেতাম। তোমাকে আমার রুমমেটের কথা আগেই বলেছি। অনেককেই দেখতাম পার্টিকে মনে করত ইন্দ্রের সভা। জানই তো ভালো কাজ করলে কমসোমল বা পার্টির প্রশংসা জুটত, খারাপ কাজ করলে তিরস্কার। অধিকাংশ সোভিয়েত ছাত্রদের দেখতাম কমসোমলের প্রশংসাপত্র স্বর্গের ভিসা বলে মনে করত। আসলেও তাই, এটা ছিল পরবর্তী জীবনে উন্নতির ছাড়পত্র। যাহোক, লেনিন চেয়েছিলেন শ্রেণীহীন সমাজ গড়তে, কিন্তু মানুষ নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সেটাকে অন্যভাবে সাজিয়ে নতুন শ্রেণীর বা বিভাজনের জন্ম দিয়েছে। তাই আমরা যেভাবেই দেখি না কেন লেনিন, সমাজতন্ত্র, সোভিয়েত ব্যবস্থা এসব নিয়ে প্রশ্ন আছে, থাকবে। থাকাটাই ভালো। নইলে আবার নতুন ডগমা জন্ম নেবে। আসলে সব ব্যবস্থাই মানুষের নামে, মানুষের স্বার্থে হলেও শুধু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ তার সুফল ভোগ করে। তাই মনে হয় সমস্যা যত না তত্ত্বে, তার চেয়ে বেশি প্রয়োগে। প্রয়োগের মধ্যেই এমন কিছু থাকে যাকে ব্যবহার করে একদল মানুষ আরেক দলকে ঠকায়, ঠকাতে পারে আর সেটা হয় নিয়মের মধ্যে থেকেই। তাই প্রশ্ন তুলতে হবে প্রয়োগের ফাঁকফোকর নিয়ে। মানে কীভাবে এই ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা যায়, যাতে সুযোগ সন্ধানীরা কোন ভালো আইডিয়াকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।
কথা বলতে বলতে এক সময় চলে এলো ওরা ক্রকোডাইল
পার্কে। কুমির আর বিভিন্ন রকম সাপে ভরা এই পার্ক। কুমিরগুলো যেন পশ্চিমের কোন সী বীচে
শুয়ে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে। কেউ হাই তুলছে, কেউ বা দাঁত কিলিয়ে হাসছে। সেখানে কিছু সময়
কাটিয়ে ওরা চলে গেল মহাবালীপুরম। মহাবালীপুরম
মামাল্লাপুরাম নামেও খ্যাত। এখানকার মূল আকর্ষণ
সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর হিন্দু মন্দির। সপ্তম
শতকে এটা ছিল পল্লভ রাজ্যের অন্যতম বানিজ্য
বন্দর। পল্লভ রাজ নরসিংহবর্মণ বা মহাবলীর নামানুসারে এই বন্দরের নামকরণ করা হয়। এ শহরের
প্রায় সব মন্দিরই পাথরের তৈরি। আসলে উড়িষ্যা থেকেই শুরু হয় পাথরের রাজত্ব। কী মন্দির,
কী স্যুভেনির – প্রায় সবই পাথরের। রাস্তার দু পাশে দোকান পাট পাথরের জিনিসপত্রে বোঝাই।
কোথাও কারিগররা বসে পাথর খোদাই করছে। বঙ্গোপসাগরের তীরে ছোট্ট সুন্দর এ শহর সত্যিই মন ভোলানো। প্রথম দিন
চেন্নাই নেমে অভির মনে হয়েছিল রাজ্যটা কেমন রুক্ষ, এখন মনে হল বাংলার মত সবুজ না হলেও
এর এক অন্য রকম সৌন্দর্য আছে। কী গ্রাম, কী শহর সবই বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অভি আর
দুলাল মুগ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়াল এই ছোট্ট সুন্দর ঐতিহাসিক শহরে। সারাদিন ঘোরাফেরা করে ঘরে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা।
অনেক কথাই ওদের বলার ছিল, তবে রাজনীতি
বা অন্য কোন ব্যাপারে কথা বলে মহাবালীপুরমের ইম্প্রেশন ওরা নষ্ট করতে চাইছিল না। বাস চলছিল দ্রুত বেগে,
একের পর
এক গাছপালা,
গ্রামগঞ্জ ছুটে যাচ্ছিল পেছনের দিকে। অভির মনে পড়ছিল ছোটবেলার কথা। মায়ের সাথে
বাসে করে যখন কোন মেলায় যেত, ও বাসের গেটে দাঁড়িয়ে দেখত কিভাবে দূর্বা ঘাস দ্রুত ছুটে
যাচ্ছে পেছনের দিকে। তখনও ও জানতো না সব গতিই আপেক্ষিক, জানতো না বাস যে গতিতে গাছপালা
থেকে এগিয়ে যায়, গাছপালাও ঠিক একই গতিতে বাস
থেকে পিছিয়ে যায়। আর জীবনে যারা সামনে না গিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে তারাও আসলে জীবন
থেকে অনবরত পিছিয়ে পড়ে। অন্ধকারে জনবিহীন রাস্তায় পথ খুঁজতে খুঁজে বাস এক সময় আলোর
সন্ধান পায়, দূরে দেখা দেয় চেন্নাইয়ের আলো। ওরা বাইরেই রাতের খাবার সেরে নেয়। দুলাল
চলে যায় নিজের হোটেলে, অভি নিজের গেস্ট হাউজে। কথা হয় পরের দিন সকালে দুলাল ওর গেস্ট হাউজে আসবে, সেখান থেকে হাঁটতে হাঁটতে ওরা চলে যাবে
মাদ্রাজ আইআইটি ক্যাম্পাসে। ওদের সাথে যোগ দেবে জাপানের সোনাদা যাকে ওরা আদর করে ডাকতো
সোনা দা বলে। ও রাস্তা চেনে, ওদের রাস্তা
দেখিয়ে নিয়ে যাবে।
পরদিন সকালে দুলাল চলে এলো অভির গেস্ট হাউজে। ইনস্টিটিউটের ক্যান্টিনে ব্রেকফাস্ট করে দুলাল, সোনাদা আর অভি হাঁটতে শুরু করল আইআইটির উদ্দেশ্যে। হাঁটছে তো হাঁটছেই, পথ আর ফুরায় না। অভির মনে পড়ল ১৯৬৯ সালের কথা। কিছুদিনের জন্য ওরা গিয়েছিল ওর বড়দা, সুবোধদার ওখানে। তিনি তখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বোকারো স্টিল সিটিতে চাকরি করেন। ওদের বাসা থেকে কিছুটা দূরে অশোক মামার বাসা। দাদা বিবাহিত, ওদের বাচ্চা হবে। অভিই তখন বউদিকে সাদ খাইয়েছিল আর ওদের ছেলে বাপি ছিল বংশের বড় সন্তান। অনেক বছর পরে ২০১১ সালে ও আবার সাদ খাওয়াবে রতনের বউকে, ঋতম হবে ওদের জেনারেশনের সর্বকনিষ্ঠ। যাহোক, ওরা প্রায় বিকেলেই হাঁটতে হাঁটতে চলে যেত মামার বাড়ি। রাস্তায় দেখত এক পাহাড়। একদিন পথে অভির ইচ্ছে হল সেই পাহাড়ে যাবে। ও ছিল মায়ের সাথে একা। আর যায় কোথায়? হাঁটতে শুরু করল অভি, পেছনে মা। কিন্তু যতই ওরা এগোয় পাহাড় ততই দূরে চলে যায়। এক সময় যখন শক্তি শেষ, মা অনেক বুঝিয়ে অভিকে বাড়ি নিয়ে এলেন। আজও সবাই বলছিল, এই তো, আর কয়েক মিনিটের রাস্তা, কিন্তু রাস্তা যেন শেষ হচ্ছিল না। অচেনা, অজানা জায়গায় সে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে ওরা এক সময় এসে পৌছুলো আইআইটির গেটে। কোন ঝামেলা ছাড়াই ঢুকে পড়ল ক্যাম্পাসে। বিশাল ক্যাম্পাস, বিভিন্ন গাছগাছালি দিয়ে ভরা। দুবনায় ওদের ইনস্টিটিউটেও অনেক গাছ, বার্চ, পাইন, ফার ইত্যাদি গাছ, তবে সেটা দেখতে পার্ক বা বনের মত। অভির সেটাকে কখনও জঙ্গল বলে মনে হয় না। কিন্তু এখানে? এ যে গহন অরণ্য? অভির বরাবরই পছন্দ গাছের ছবি তোলা, কিন্তু এই প্রথম একটু ইতস্তত করল। কে জানে সাপ-টাপ কিছু আছে কি না!
দেখুন দেখুন, হরিণ!
চিৎকার করে উঠলো দুলাল। হ্যাঁ, কতগুলো হরিণ শাবক এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। যে অভি ওদের ক্যাম্পাসে কাঠবিড়ালি বা কালেভদ্রে সজারু বা পেঁচা দেখলে সব ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে, হরিণ দেখে ওকে আর পায় কে। এদিক থেকে ছবি নেয় তো ওদিক থেকে। ওদিকে বিশাল বিশাল বটগাছে বানরেরা ঝুলে বিভিন্নভাবে ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। হয়তো ওরা যেদিক দিয়ে হাঁটছিল সেটা মেইন রাস্তা নয়। লোকজন ছিলই না বলতে গেলে চলে। এক সময় সামনে পড়ল এক সাইনবোর্ড। সেটা দেখে ওরা গেল পুকুরের ধারে। শত হলেও শীত কাল, জল নেই বললেই চলে। অনেক হাঁটাহাঁটির পর একটা ক্যাফের দেখা মিলল। ওরা সেখানে গেল আইসক্রিম আর চা বা কফি খেতে। সোনাদা আগেই বলল
আমি তোমাদের খাওয়াবো।
আসলে বিভিন্ন ভিজিট বা কনফারেন্সে গিয়ে অভির একটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে যেটা কী দেশে কী মস্কোর বাঙ্গালী, বিশেষ করে বাংলাদেশীদের মধ্যে দেখা যায় না। কনফারেন্সে ওরা প্রায়ই দল বেঁধে ডিনার করতে যায় কোন রেস্টুরেন্টে। কখনও যার যারটা সেই পে করে, আবার কখনও যে যাই অর্ডার দিক না কেন, টোটাল বিলটা সবাই সমান ভাবে ভাগাভাগি করে দেয়। ওখানে খাওয়া নয়, কোম্পানি দেওয়া বা এক সাথে সবাই মিলে খাওয়াটাই আসল কথা। খাওয়া দাওয়া শেষে ওরা হাঁটতে হাঁটতে চলে এলো মেইন গেটে। অনেক হাঁটাহাঁটি হয়েছে এক দিনে, আর নয়। বাসে করে শহর দেখতে দেখতে ঘরে ফিরবে ওরা। দুলাল চাইছিল ট্যাক্সি ডাকতে, তবে সোনাদা রাজী হল না। অগত্যা বাসে। দুলালকে মনে হল একটু মনঃক্ষুণ্ণ। ওর ইচ্ছে ছিল গতকালের আলাপটা চালিয়ে যেতে। জানে আগামী কাল থেকে অভি ব্যস্ত থাকবে নিজের কাজে। অভি ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল
মন খারাপের কী আছে। তুমি এ কটা দিন এ শহরটা ঘুরে দেখতে পারবে। চাইলে ডাক্তার দেখিয়ে যেতে পার। কত লোকই তো দেশ থেকে এখানে আসে মেডিক্যাল চেক-আপ করাতে। পুনায় আমি দশ দিন থাকব। সেখানে অনেক সময় পাব গল্প করার। জানি তুমি আমেরিকায় যেতে চাইছ। আমেরিকা তো কোথাও যাচ্ছে না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে হারানো দিনের গল্প বলাও হবে, দেশটাও ভালো করে দেখা হবে।
দুলাল কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অভি আর সোনাদা চলে গেল গেস্ট হাউজে।
http://bijansaha.ru/albshow.html?tag=136
http://bijansaha.ru/albshow.html?tag=117

Comments
Post a Comment